লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ডলারের আধিপত্য ভাঙার চেষ্টায় চীন | অর্থনীতি - https://citizensvoicebd.com/

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 03 নভেম্বর 2026, 02:00 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 31 বার পঠিত
ডলারের আধিপত্য ভাঙার চেষ্টায় চীন | অর্থনীতি - https://citizensvoicebd.com/
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের আধিপত্য কমাতে চীনের বহুমুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রিজার্ভে ডলারের অংশ ৫৬.৭০ শতাংশ এবং ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২.১১ শতাংশে সীমাবদ্ধ। প্রতিদিনের ৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক লেনদেনের ৮৯.২ শতাংশেই ডলারের উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশ চীন থেকে বছরে ১৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও ইউয়ানে সরাসরি লেনদেনের সীমাবদ্ধতা ডলারের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ২০২৬ সালের আগস্টের সুইফট ডাটা অনুযায়ী, বৈশ্বিক পেমেন্টের ৫৯.৮৭ শতাংশ ডলারে সম্পন্ন হলেও ইউয়ানের অংশ মাত্র ২.৩৮ শতাংশ, যা মুদ্রাবাজারে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য নির্দেশ করে।
  • চীনের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম সিআইপিএস-এ ২০২৫ সালে ১৮০.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান লেনদেন হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের চিপস (CHIPS) ব্যবস্থার ৫০৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২০ ভাগের এক ভাগ।
  • ২০২৬ সালের মে মাসে পান্ডা বন্ডের মাধ্যমে ২৬.৬ বিলিয়ন ইউয়ান সংগৃহীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪৬ শতাংশ বেশি এবং পাকিস্তান ও কাজাখস্তান প্রথমবারের মতো এই বন্ড ইস্যু করেছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে চীন তাদের মুদ্রা ইউয়ান বা রেনমিনবি-কে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালালেও বাস্তব চিত্র এখনো ডলারের অনুকূলে। আইএমএফের ২০২৬ সালের জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ১৩.২২ ট্রিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের ৫৬.৭০ শতাংশই ডলারে সংরক্ষিত, যেখানে ইউয়ানের অংশ মাত্র ২.১১ শতাংশ। যদিও ২০০১ সালে ডলারের অংশ ছিল ৭১.৫ শতাংশ, তবে এই হ্রাসের সুফল ইউয়ান খুব একটা নিতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের এই আধিপত্যের মূলে রয়েছে 'নেটওয়ার্ক এফেক্ট'। বিআইএস-এর ২০২৫ সালের জরিপ বলছে, প্রতিদিনের ৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের মুদ্রা লেনদেনের প্রায় ৮৯.২ শতাংশের এক পাশে ডলার থাকে। চীন বিকল্প হিসেবে সিআইপিএস (CIPS) ব্যবস্থা গড়ে তুললেও ২০২৫ সালে এর লেনদেন ছিল ২৬.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের চিপস ব্যবস্থার ৫০৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের তুলনায় নগণ্য। এছাড়া চীনের ৪.৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের সোয়াপ লাইনের মাত্র ২ শতাংশ বাস্তবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটি প্রতিবছর চীন থেকে প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো টাকা থেকে সরাসরি ইউয়ানে লেনদেনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ইউয়ান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডলার বিক্রি করেই ইউয়ান সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পণ্যের দাম ডলারে নির্ধারিত (ইনভয়েসিং) হলে পেমেন্ট ইউয়ানে করলেও ডলারের বিনিময় হারের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

তবে ইতিবাচক দিক হলো পান্ডা বন্ডের ক্রমবর্ধমান বাজার। ২০২৬ সালের মে মাসে পান্ডা বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ ২৪৬ শতাংশ বেড়ে ২৬.৬ বিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান ও কাজাখস্তানের মতো দেশগুলো এই বাজারে প্রবেশ করায় ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে ডলারের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সহজতর হতে পারে, যদিও বর্তমান বাজার কাঠামোতে ডলারই প্রধান নিয়ন্ত্রক।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ