রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত মহালয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, ধর্ম-বর্ণের বিভাজন মুছে দিয়ে সবার মূল পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় সরকার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ এবং দুর্গোৎসবে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করেছে, যা সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অংশ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের মহালয়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে 'বাংলাদেশি' জাতীয় পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
- দীর্ঘ সময় পর সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন মুখপাত্র।
- 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতি অনুযায়ী ধর্মীয় পরিচয় বা বৈষম্য ছাড়াই প্রতিটি নাগরিকের সমান সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ধর্ম-বর্ণ ও বিশ্বাসের বৈচিত্র্য ছাপিয়ে সমঅধিকার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন সকালে বনানী মাঠে পৌঁছালে আয়োজক সংগঠনের নেতারা তাঁকে উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেন। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা ও আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাই মহালয়ার মূল বার্তা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হবে যেখানে ধর্মীয় কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে কাউকে কোনো ধরনের বৈষম্য, অবিচার বা বিভেদের শিকার হতে হবে না। নাগরিকেরা স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবেন। এ সময় তিনি জানান, সনাতন সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এবার সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান বাড়ানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির পরিধিও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, বনানী মাঠের এই সমবেত হওয়া সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের এলাকা। জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষাই বর্তমান প্রশাসনের চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো ধরনের সামাজিক বিভেদ নয়, বরং নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় অভিন্ন এবং তা হলো ‘বাংলাদেশি’। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং বিদ্বেষের স্থানে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই নতুন দিনের বাংলাদেশ অগ্রসর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবশেষে দেশের সার্বিক শান্তি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতি কামনা করে মাহ্দী আমিন আয়োজক গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে কোনো অশুভ শক্তি নষ্ট করতে পারবে না। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করার জন্য তিনি দেশের প্রতিটি ধর্মাবলম্বী নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।