দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আবারও ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান তাঁকে ‘দোষীসাব্যস্ত অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। বিষয়টি বর্তমানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দোষীসাব্যস্ত অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আইনি কাঠামোর আওতায় সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ফের জোরালো কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা তাদের কাছে একজন অপরাধী ছাড়া আর কিছু নন। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তাবলী মেনেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংরক্ষণবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে উদ্ভূত তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে ২০২৪ সালের ৫ মে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। এই রায়ের পরই বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকরের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়।
ঢাকার তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই পুরো বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ কূটনৈতিক ও আইনি মারপ্যাঁচে মোকাবিলা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ধারাগুলো প্রয়োগ করে অফিশিয়াল আবেদনপত্র দিল্লির কাছে পাঠিয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো আবেদনটি তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখছে।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের এই দাবি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে হাসিনাকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের মতো ঘটনাগুলো দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে এই প্রত্যর্পণ আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।