বিদ্যমান জ্বালানি সাশ্রয়ী নির্দেশিকা শিথিল করে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন ও মালিক সমিতি। তাদের মতে, বর্তমান নির্ধারিত স্বল্প সময়ের কারণে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং ব্যবসা বাণিজ্যে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ও বিভিন্ন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
- এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে রাত ৮টার মধ্যে সকল দোকানপাট ও বিপণন বিতান বন্ধ রাখার নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
- ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করার কারণে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিদ্যমান জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতিমালার সময়সীমা পরিবর্তন করে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও মালিক সমিতির নেতারা। তাদের মতে, বর্তমান ৮টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নিয়মের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের প্রধান ভিড় তৈরি হয়, যা রাত ৮টার মধ্যে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট, শপিং মল ও কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই নিয়মেই দেশের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের লোকসানের কথা বিবেচনা করে এই সময়সীমা আরও দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলে জোরালো দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণে সন্ধ্যার পর কেনাকাটায় বড় ধরনের ছেদ পড়ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর। পাশাপাশি, সামনে বিভিন্ন উৎসব ও মৌসুমী কেনাকাটার সময় থাকায় এই বিধিনিষেধ শিথিল করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন তারা। অন্যথায় কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং দোকানের ভাড়া পরিশোধ করা দুরূহ হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীদের এই দাবির ফলে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার আবহ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য খাতের লাভ-ক্ষতির হিসাব নিকাশ করে সরকার খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, যা একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে ব্যবসায়িক গতিশীলতাও বজায় রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।